তথাগত ঘোষ, হাওড়া: আরও বড় ভাঙন লক্ষ্যণীয় হতে পারে হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে। বড়সড় বিপাকে পড়তে পারে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগদান করেছেন অরূপ রায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর পরিবর্তে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসাবে ঘোষিত হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়কের নাম। তাঁর পরিবর্তে হাওড়া জেলা সদর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে ঘোষিত হয়েছিল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কিন্তু, সূত্রের খবর, তিনিও বর্তমানে বেসুরো সুর গাইতে শুরু করেছেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন রাজীব। তারপর থেকে চুপচাপ ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় আড়াই মাস পর ফের প্রকাশ্যে এলেন তিনি। নিজের ফেসবুক পেজের কভার ফটো থেকে সরিয়ে দিলেন মমতা ও অভিষেক কে। শুধুমাত্র নিজের ছবি দিলেন, যেখানে লেখা মানুষের সাথে, মানুষের পাশে। অর্থাৎ, স্পষ্টভাবেই দলের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে একটি সংবাদ সংস্থাকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশেপাশে সবাই বলছেন যে অভিষেক থাকলে তাঁরা দল করবেন না। অভিষেক সরে গেলে সকলে আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে থাকবেন। কিন্তু, আমি বুঝতে পারছি না যে, এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন। এটা আমাদের নেতাদের কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই। আমার বক্তব্য হল, রাজনীতি করা মানুষের জন্য। সেই কাজই যদি না করতে পারি, কেন দলে থাকব?’
তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘অভিষেক আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার, পরিবার সব শেষ করে দিয়েছে। যেসব আসন আইপ্যাক তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছে সেখানেই পরাজয় ঘটেছে দলের প্রার্থীদের।‘ তাঁর এই মন্তব্যের পর স্পষ্টভাবেই রাজীবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়েছিলেন। বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি তিনি বুকে আগলে নিয়ে যান। ২০২১ সালে ডোমজুড় থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরাজিত হতে হয় কল্যাণ ঘোষের কাছে। পরাজয়ের বছর খানেকের মধ্যেই ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন রাজীব। ২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজীবকে ডোমজুড় থেকে সরিয়ে ডেবারার প্রার্থী করে তৃণমূল। কিন্তু, তারপরেও বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরজিত হন। ফলপ্রকাশের পর থেকে সেইভাবে প্রকাশ্যে আসেননি রাজীব। মাঝে, অরূপ রায় ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করার পর রাজীবকে হাওড়া সদরের জেলা সভাপতি করে তৃণমূল।
কিন্তু, এবার রাজীব বন্দ্যপাধ্যায়ের গলাতেও বেসুরো সুর। স্পষ্টভাবেই অভিষেক বন্দ্যপাধ্যায় কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। এবার রাজীব কি ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখাবেন নাকি পুনরায় আবার ফিরবেন বিজেপিতে? সেটাই বড় প্রশ্ন।
