শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: একটা সময় ছিল এই সঞ্জীবের জন্য বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। আর এখন রীতিমত ভিত যে রাস্তায় বের হলেই আবার তার দিকে ধেয়ে আসবে 'ডিম'। পানিহাটির সেই প্রাক্তন কাউন্সিল সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের জামিন হলো না। তোলাবাজি ও অবৈধ নির্মাণের মামলায় শুক্রবার বারাকপুর আদালত তাঁকে জামিন দেয়। তবে অভয়া মামলায় আরও সাতদিন তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে। এদিন এক আইনজীবীর মৃত্যুতে কর্মবিরতি ডেকেছিলেন বাকি আইনজীবীরা। তাই কেউ তাঁর হয়ে আদালতে যাননি। নিজের হয়ে নিজেই সওয়াল করেন সঞ্জীববাবু। তাতে অভয়া মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আর জি কর মামলা অর্থাৎ অভয়া ধর্ষণ-খুনের ফাইল খোলা হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে। দু’বছর আগে ঘটনার পরপর কেন অভয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছিল? এই প্রশ্ন তুলে তিনি ফের তদন্তের নির্দেশ দেন।
এরপরই নিহত চিকিৎসকের বাবা খড়দহ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন – পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে গ্ৰেপ্তার হন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং নির্মল ঘোষ। এখনও অধরা সোমনাথ। দু’জনকে গ্ৰেপ্তারের পর খড়দহ থানার সামনে জনতার বিক্ষোভে ইটের টুকরো এসে লাগে সঞ্জীবের ডান চোখে। তাতে তাঁর চোখে চোট লাগে বলে আদালতে জানানো হয়েছিল। এদিন চোখে ব্যান্ডেজ নিয়েই আদালতে হাজির হন তিনি। তবে বারাকপুর আদালতের এক আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনজীবীরা কর্মবিরতিতে থাকায় তাঁর হয়ে সওয়াল করার মতো কোনও আইনজীবী ছিলেন না। ফলে নিজের পক্ষেই সওয়াল করেন সঞ্জীব। নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি ডান চোখের চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে জামিনের আবেদন জানান। সরকারি আইনজীবী তাঁর জেল হেফাজতের আবেদন করলেও তা খারিজ করে দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। কিন্তু এখনই জেলমুক্তি হচ্ছে না সঞ্জীবের।

