শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বাড়ির ভিতরে থরে থরে টাকার পাহাড় আর সোনার বিস্কুট। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরে এতো টাকা ও সোনার পাহাড় এই প্রথম। একটা বিষয় স্পষ্ট তৃণমূল আমলে দুর্নীতির শিরোনামে উঠে গিয়েছিল দল তথা সরকার। এবারের ঘটনা বীরভূম। অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার তথা আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা! খোঁজ বিপুল সোনার। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ১৫ কেজি সোনা এবং নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি টুলু মণ্ডলের নাম জড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পাথর ব্যবসার আড়ালে বড়সড় কোনও দুর্নীতি রয়েছে! আর তারই টাকা মিনারের বাড়িতে লুকানো ছিল? কিন্তু কে এই মিনার মণ্ডল? যে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে এই বিপুল অর্থ উদ্ধার হল, তাকে কার্যত চিনতেনই না থানার পুলিশ কর্মীদের থেকে শুরু করে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশও৷ টুলু মণ্ডলের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসাবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি৷ ছেলের ভাল চাকরি, মেয়েরও বিয়ে হয় এক শিক্ষকের সঙ্গে৷ সব মিলিয়ে এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’ ছিল মিনারের৷
তবে মিনারের উত্থানের কাহিনী বেশ চমকপ্রদ! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু বছর আগে পর্যন্তও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থায় বাসের চালকের কাজ করতেন মনির মণ্ডল। কিন্তু বছর চারেক আগে সেই সরকারি কাজ থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার কাজ দেখাশোনাতেই মন দেন তিনি। জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল ইজারা নিয়ে যে কয়েকটি ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) গেট চালাতেন, তারই মধ্যে রায়পুরের ডিসিআর গেটের দেখভাল করতেন মিনার। মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডেউচা বাস স্ট্যান্ডের পাশেই তাঁর দোতলা বাড়ি আকারে বেশ বড় হলেও আলাদা করে বিশেষ নজরে পড়ে এমনটা নয়! জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বাড়ির সামনের রাস্তাটুকুর দশাও বেহাল। তবে এলাকার কান পাতলেই শোনা যায়, গত চার বছরের মধ্যে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল মনির। রাতারাতি বদলে যায় ঠাটবাট। স্থানীয় বাসিন্দা শিবলাল সোরেন বলেন, “গত কয়েক বছরে হালচাল বদলে গিয়েছিল মিনার মণ্ডলের৷ হাতে টাকা এল যেমন বদল আসে, ঠিক তেমনই! তবে ওঁর বাড়ি থেকে এত কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হবে আমরাও ভাবিনি৷"
