সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে একটি মিটিং থেকে্ত তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন …‘ মুকুল এতটা খারাপ নয়’ নেত্রীর এই কথা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা । শুধু তাই নয় নির্বাচনী প্রচারে তৃনমূল নেত্রী এও বলেছিলেন…… মুকুল থাকে কাঁচড়া পাড়ায় তাকে টিকিট দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে নদীয়ায়। নেত্রীর এই কথাগুলো ঘিরে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে, মুকুলের পুরনো দলে ফেরার একটি সম্ভাবনা। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, শুক্রবার নিজের ঘরে ফিরলেন মুকুল।
{link}
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়। তার পরেই তাঁকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে গেরুয়া শিবির। নিজস্ব দক্ষতায় মেরুদণ্ডহীন জেলায় গিয়ে বিজেপির সংগঠনকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন মুকুল। মুকুলের হাত ধরে সবুজ শিবির ছেড়ে বিজেপিতে ভিড়তে থাকেন নানা স্তরের নেতা।
মুকুলকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলও ফলেছিল হাতেনাতে। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে চোখ ধাঁধানো সাফল্য পায় বিজেপি। দুই থেকে এ রাজ্যে তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে হয় ১৮। আসন কমে যায় তৃণমূলের।
মুকুল ঘনিষ্ঠরা বলেন, ‘দাদা তিন বছর ৯ মাস দলে থাকলেও যোগ্য সম্মান পেলেন না।’ বস্তুত, মুকুল রায়ের মতো নেতাকে সত্যিই সেভাবে ব্যবহার করেনি গেরুয়া শিবির। দিলীপ লবিকে সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে মুকুলবাবুকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপিতে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় থাকার পরও তাঁর প্রাপ্তি শুধু নাম-সর্বস্ব সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ। যে পদের গরিমা থাকলেও কার্যকারিতা তেমন নেই। আসলে গেরুয়া শিবিরে সভাপতির পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পান সাধারণ সম্পাদকরা। সহ-সভাপতিদের বিশেষ কিছু করার থাকে না। মুকুলবাবুও এই পদে থেকে বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেননি। বিজেপিতে এতদিন তাঁকে থাকতে হয়েছে আজ্ঞাবহ হয়েই।
{link}
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গোড়ার দিকে কোনও পদ না-পেয়ে দলে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন মুকুল। এই মান-অভিমান এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, একটা সময় দিল্লিতে গিয়েও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক না-করেই চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। দলে গুঞ্জন ছিল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর 'মধুর' সম্পর্কই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি করেছিল। গুঞ্জন শুরু হয়, তৃণমূলে ফিরতে পারেন মুকুল। এর পরেই তড়িঘড়ি করে তাঁকে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির পদ দেওয়া হয়।
{link}
প্রসঙ্গত শুক্রবার তৃণমূল ভবনে হাজির হয়ে জোড়াফুল শিবিরে যোগ দিলেন মুকুল রায়। বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে এবং স্বপুত্র ফের তৃণমূল ফিরলেন মুকুল রায়। শুক্রবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে 'ঘর ওয়াপসি' হল মুকুল রায়ের।
মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই বাংলায় বিজেপির সংগঠন ভেঙে পড়বে বলে মত প্রকাশ করেন সুখেন্দু শেখর রায়।
