শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এক নাম নিয়ে যে কত বিভ্রাট! আগের মমতা সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে 'বাংলা' বা 'বঙ্গ' রাখার কথা বলেছিলেন। তার স্পষ্ট কথা পশ্চিমবঙ্গ আর্থাৎ ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল নাম থাকলে রাজ্যের ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা হয়। কোনও সরকার মিটিংয়ে ইংরেজি অ্যালফাবেট অনুযায়ী যখন পরপর রাজ্যগুলিকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়, যেহেতু West Bengal-এর প্রথম অক্ষর'W', তাই একেবারে শেষে আসে পশ্চিমবঙ্গের সুযোগ। যেহেতু একেবারে শেষ পর্যায়ে আসে, রাজ্যের দাবিদাওয়া পেশ করার সুযোগ বিশেষ থাকে না। গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই প্রথম অক্ষর B হলে প্রথম দিকেই সুযোগ পাবে পশ্চিমবঙ্গ।
শুভেন্দু টেনে আনলেন ইতিহাসকে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন ইতিহাসকে। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসকে সম্মান দিতেই পশ্চিমবঙ্গ নামের পরিবর্তন দরকার নেই। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ইতিহাস মনে করিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, 'আমরা মন্ত্রিসভা বসে ঠিক করেছি, যে পশ্চিমবঙ্গ নামটার, ব্যাপক একটা ঐতিহ্য লুকিয়ে রয়েছে। কারণ বিভীষিকাময় দেশভাগ যেদিন হয়েছিল, ১৯৪৭ সালে,সেদিন আমাদেরকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানে। সেদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, পূর্ব পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় ৫৮২১ ভোটে। এবং তার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরা যে বিচারধারায় সরকার চালাই এবং কঠিন বাস্তব, যে পশ্চিমবঙ্গ-এর 'পশ্চিম' নামটা কোনদিন মুছে দিতে পারি না। তিনি বলেন, 'পশ্চিম নামটা তৈরি করার মধ্য দিয়ে অনেক ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। যা বর্তমান আগামী প্রজন্মের জানা দরকার। তাই আমরা বাংলার বাড়ির নাম পরিবর্তন করে, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি পশ্চিমবঙ্গ আবাস নামে পরিচিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ নাম আমরা কখনও ভুলতে দিতে পারি না। এটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
