মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সুযোগ পেয়েছেন একাধিক নতুন যুব নেতা নেত্রী। একইসঙ্গে বাদ পড়ে গিয়েছেন একাধিক বর্ষীয়ান নেতা। একজন বা দুজন না, একদম ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। নিজের দলকে তিনি কার্যত নতুন করে গুছিয়ে নিতে চাইছেন। সেই কারণেই বাদ পড়তে হয়েছে এই অভিজ্ঞ নেতৃত্বদের।
{link}
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু জননেতা সুযোগ না পেলেও সুযোগ পেয়েছেন তাদের সন্তানরা। ৭৪ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিজের জায়গায় তাদের ছেলেকে বসিয়ে দিয়েছেন। বাদের তালিকায় রয়েছেন একুশের নির্বাচনে জেতা বাবুল সুপ্রিয়। যিনি কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে, একইভাবে আবার শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যরা বাদ পড়েছেন। সবমিলিয়ে কোন কোন বিধায়ক টিকিট পেলেন না? সেই নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
{link}
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মহেশতলা বিধানসভার বিধায়ক দুলালচন্দ্র দাস এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না বলে দলকে জানিয়েছিলেন। এদিন ওই আসনে তাঁর পুত্র শুভাশিস দাসকে প্রার্থী করল তৃণমূল। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না দুলালবাবু। আবার একইভাবে এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহাও এবার তাঁর আসনে পুত্র সন্দীপন সাহাকে প্রার্থী করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এদিন তালিকা ঘোষণা করার পর দেখা গেল, তাঁর আবেদন মেনে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মানিকতলার বর্তমান বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডেও এবার টিকিট পাননি। তাঁর কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডেকে ওই আসনে প্রার্থী করল তৃণমূল। পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও এবারে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়নি। ওই আসনে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ।
{link}
অন্যদিকে বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় ইতিমধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে ভোটে লড়ছেন না তিনি। ওই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বেলেঘাটার বর্ষীয়ান বিধায়ক পরেশ পালকে এবার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। ওই আসনে লড়বেন কুণাল ঘোষ। শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবার যে টিকিট পাবেন না, তা নিশ্চিত ছিল। ২৫ বছর পর বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল তৃণমূল। পার্থের কেন্দ্রে এবার প্রার্থী হচ্ছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নদিয়ার পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে এবার টিকিট দেয়নি দল। আবার নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাও টিকিট পেলেন না। সব মিলিয়ে বেশ কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
{ads}