শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: ইদানিং একটা প্রচলিত প্রবাদ বেশ কয়েক বছর ধরেই নিন্দুকেরা করেন -' তৃণমূলকে বিশ্বাস করা যায় না।' এখন বিপুল পরাজয়ের পরেও কিন্তু তৃণমূলের 'সততা'। তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়ার কথা ছিল। ৭০ জন বিধায়কের সই নিয়ে সেই রেজোলিউশন জমা দেয় তৃণমূল। সেই সই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। খোদ বিধায়কই বলছেন তিনি সই করেননি। তাহলে সই করল কে? বৃহস্পতিবার দিনভর একের পর এক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হাজির হল সিআইডি (CID)। সঙ্গে ছিলেন ‘হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট’। তাঁদের সই জাল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল সিআইডি। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলামের পর শুক্রবার সকালে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছে সিআইডি। কী এমন ঘটল! কেন জাল সই-এর অভিযোগ উঠছে?তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়ার কথা ছিল। ৭০ জন বিধায়কের সই নিয়ে সেই রেজোলিউশন জমা দেয় তৃণমূল।
সেই সই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। খোদ বিধায়কই বলছেন তিনি সই করেননি। তাহলে সই করল কে? বৃহস্পতিবার নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ছিল সিআইডি টিম। ভিডিয়োগ্রাফি করে বলেও দাবি নয়নার। তিনি বলেন, “এটা বিধানসভার কোনও কাগজ নয়। এটা আমাদের দলীয় কাগজ। আমরা দলের তরফে একসঙ্গে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কাগজে জায়গা ছিল না বলে সই করিনি। বুঝতে পারিনি, সই না করলে বাড়িতে সিআইডি আসবে। পরের বার থেকে সতর্ক থাকব।” অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে দিন সই করা হয়েছিল, সেদিন তিনি বাড়ি থেকে বেরোননি। এলাকায় গণ্ডগোল চলছিল বলেই নাকি তিনি বেরতে পারেননি। বাহরুলের গলায় স্পষ্ট ক্ষোভের সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, “আমি তো সই করিনি। দল একবার আমাকে জানাতে পারত। সইটা কে করল! ভূত করল! আমি সই করতে চাই কি না, জানতেও চাওয়া হয়নি।” আর কুণাল ঘোষ দলকে বাঁচাতে এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
