শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল: ভারতীয় রাজনীতি মানেই এক অনিশ্চয়তা। এই মুহূর্তে যা আছে পরমুহূর্তেই তার পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা সকলেই জানি সায়নী ঘোষ ছিলেন মমতার খুবই ঘনিষ্ঠ। কোনো অজ্ঞাত কারণে তিনি এখন মমতা বিরোধী। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভক্ত। একটা সময়ে BJP-র বিরুদ্ধে গলার স্বর চড়ানো এই সাংসদ প্রথমবার যোগ দিলেন NDA বৈঠকে। আর সেই বৈঠকে তাঁর এক অন্যরকম অনুভূতি হল, তা ধরা পড়ল সায়নীর বক্তব্যেই।রাজনীতিতে কে, কখন, কার পক্ষ নেবে তা বলা কঠিন হয়ে উঠেছে বর্তমানে। একসময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা TMC সুপ্রিমোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সায়নী। তরুণী সাংসদের রাজনৈতিক জীবন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে NCPI-তে যাওয়ার পর সায়নী এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভক্ত হয়ে উঠেছেন।
২০২৪ সালে সায়নী ঘোষ যাদবপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে লোকসভায় নির্বাচিত হন। এরপর তিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং BJP-র বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান।
তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সায়নী ঘোষের রাজনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন তাঁর নিশানায় আর BJP নয় বরং রয়েছে বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ে NDA সংসদীয় দলের 'মঙ্গল মিলন' বৈঠক বসেছিল। প্রথমবারের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে NCPI-তে যোগদানকারী সমস্ত সাংসদরাই সেই বৈঠকে যোগ দেন। সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়াদের দেখা যায় সেই বৈঠকে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যঠমের সামনে সায়নী বলেন, 'আমি NDA বৈঠকে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নকেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক ছিল তথ্যবহুল। অনেক জ্ঞানার্জন করতে পেরেছি।' আপ্লুত সায়নী আরও বলেন, 'আমরা অনেক কিছু শিখতে পারলাম। সভায় আমাদের কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সভাটি খুবই সমৃদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ব্লু ইকনমির উপর একটি প্রেজেন্টেশনও দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
.jpeg)
