শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এক অর্থে ভারতে অনেকটা বিপ্লব দেখালো তৃণমূল কংগ্রেস। কেন তৃণমূল বিপ্লব? সেই আলোচনার আগে জেনে নিই এই মেনকাকে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করলেন তৃণমূলের প্রাথীরা। কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়দের সঙ্গেই এদিন বিধানসভায় হাজির হন মেনকা গুরুস্বামী। সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়েই মনোনয়ন পেশ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এদিন ৫১ বছর বয়সি মেনকাকে দেখা গেল গোলাপি শার্ট ও ছাই ছাই রঙের ব্লেজারে। সঙ্গে সঙ্গিনী অরুন্ধতী কাটজু। ২০১৮ সাল থেকেই লিভ-ইন করছেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী মেনকা বহু নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মামলা লড়েছেন। দিন কয়েক আগেই রাজ্যসভার চারটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। তখনই জানা গিয়েছিল অন্যতম প্রার্থী হয়েছেন এই বিশিষ্ট আইনজীবী। গত সপ্তাহে এক্স হ্যান্ডেলে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকায় বিরাট চমক দিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিল মেনকার নাম। তাঁর মনোনয়ন তৃণমূলের এক মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এক আইনজীবীর পাশাপাশি মেনকার আরেক পরিচয়- তিনি ঘোষিত ভাবেই একজন সমকামী।
{link}
সময় বদলেছে। লিঙ্গসমতা, মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এখন আরও বেশি করে গুরুত্ব পাবে, এটাই কাম্য। যদিও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি সমকামিতার বিরুদ্ধাচরণই করে এসেছে। সেখানে তৃণমূল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। রাজনৈতিক দলগুলি অনেক সময়ই সমকামিতায় বিশ্বাসের কথা বললেও সংসদীয় রাজনীতিতে এমন স্বীকৃতি দেওয়ার সাহস কেউই করেনি। যা করল ঘাসফুল শিবির। দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী সাংসদ হিসাবে সংসদে উচ্চকক্ষে মেনকার প্রবেশ এক ইতিহাস রচনা করবে। তৃণমূলের অন্দরে একাংশের মত, সাম্প্রতিককালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রান্তিক লিঙ্গ যৌনতার মানুষদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সদ্যই সমকামী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে নেদারল্যান্ড। অতীতে আইসল্যান্ড, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ড এবং সার্বিয়ার মতো দেশ রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে প্রান্তিক লিঙ্গ যৌনতার মানুষদের পেয়েছে। কিন্তু সেই অর্থে এশিয়ার দেশগুলিতে এমন নজির তো নেই-ই, তাঁদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণও কম। ভারতের মতো সবচেয়ে গণতন্ত্রেও সে রকম উদাহরণ এতদিন ছিল না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষমতার কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি বদলের বার্তা দিল বঙ্গের শাসকদল।
{ads}