পুরনোকে ফেলে নতুনকে স্বাগত জানানোর খেলা শুরু হয়ে গেছে প্রকৃতিতে। ঝরে পড়ছে পুরনো শুকনো পাতা। মাঘের প্রায় শেষের দিক, ফাল্গুন দিচ্ছে উঁকি। বেশ একটা বড় ইনিংস খেলার পর এবার সময়ে এসেছে লগ্ন বিদায় বেলার। হিমেল পরশ কাটিয়ে নিজেদেরও তরতাজা করে তোলার। কিন্তু আমাদের ভালোবাসার টানে শীত হয়তো বিদায় বেলাতেও যেতে চেয়েও যেতে পারছেনা। পড়ে গেছে পিছুটানের মায়ার জালে। নলেন গুড়ে জমে উঠছে ফ্যানা, আর দম নেই নলেন গুড়ের রসগোল্লার। আবার অন্যদিকে নিজের কদর বাড়াতে ব্যাস্ত কমলালেবুও। বাজারে উঁকি দিচ্ছে পটল, ঝিঙ্গে।পাওয়া যাচ্ছে না তাজা বাঁধাকপি, ফুলকপি যাচ্ছে শুকিয়ে।যদিও পটল ঝিঙ্গে এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরাও বুঝতে পারছি শীতের এবার যাবার পালা। কিন্তু শীত যেন আমাদের কানে কানে বলছে এত সহজে আমি যাচ্ছি না। যতই পলাশ-শিমূল ফোটার সময় আসুক, কোকিলে ডাক দিতে শুরু করুক এখনো বইছে হালকা উত্তরে বতাস। লেপ-তোষক এখনোও ছাড়তে পারছি না আমরা। সন্ধ্যের পর এখনো ভালোমত শীতবস্ত্র চাপাতে হচ্ছে গায়ে। ভোরের দিকে এখনো মুখোমুখি হতে হচ্ছে কুয়াশার। আর বিকেলের পর ভিজে যাচ্ছে ঘাস, পড়ছে শিশির।
পাতাঝরা মরসুমকে বিজয়া জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর পালা। কিন্তু শীত এখনো ছেড়ে যায়নি। যাব যাব করে ঠিক নিজের অস্তিত্বকে বজায় রেখেছে। শেষবেলায় শীতের কার্যকারিতা বেশ ভালো। ফেব্রুয়ারির শুরুতে শীতের আমেজটা বেশ ভালোই ছিল। তবে শনিবার সকাল থেকেই তাপমাত্রা একটু বেড়েছে। এই শীতকে জমিয়ে উপভোগ করেছে বঙ্গবাসী। কিন্তু যতই আমরা শীতকে ভালবাসি এই বিজয়া বেলায়ে এবার বিদায় জানাতেই হবে। এই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আমাদের একটু সতর্কও থাকতে হবে। ঠাণ্ডা গরমের যে আমেজটা তৈরি হচ্ছে তাতে একটু অসাবধানতা হলেই জ্বর, সর্দি, কাশির স্বীকার হবে। তারসাথে করোনাতো রয়েছে তালে তাল মেলাতে।
মাঘের শীত বাঘে খায় এর প্রমান বহুসময়ে পরে আমরা এইবারের শীতের মরসুমে যথারীতি টের পেয়েছি। এত বড় একটা ইনিংস খেলার পর আদৌ যাবে নাকি আবার ফিরে আসবে, প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। বিদায় বেলা কি আদৌ এসেছে, নাকি এখনো দিন বাকি আছে। নাকি আবার ফের পাল্টা পড়বে শীতের প্রকোপ? উত্তর পাওয়া যাবে আসন্ন মরশুম থেকে, ইঙ্গিত কিন্তু সেই দিকেই
.jpeg)
