সুদেষ্ণা মন্ডল, বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের চম্পাহাটি হারাল বাজি মার্কেট প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাদের। মহামান্য আদালতের নির্দেশ মতন তারা পরিবেশবান্ধব আতশবাজি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। রাজ্যে দূষিত আতশবাজিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই বিষয়ে বেশ কড়া হাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে কালী পুজোর আগে মিলল সুখবর। পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি বিক্রি করতেই পারেন বিক্রেতারা। সে ক্ষেত্রে কোন রকম আইনি বাধার মুখে পড়তে হবে না। তাদের তাই গ্রিন বাজি বিক্রি করার জন্য এবং মজুত করার জন্য রাজ্যের তরফ থেকে লাইসেন্স দেওয়া হবে বলেই জানায় দমকল দফতর। গ্রিন বাজির ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি বিষয়কে মাথায় রাখা হবে। প্রথমত যে সকল গ্রীন বাজিগুলি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সক্লুসিভ সেফটি অর্গানাইজেশনের ছাড়পত্র পাবে সেগুলি বিক্রির জন্যই লাইসেন্স দেবের রাজ্য। এছাড়াও ওই গ্রিন বাজির প্রত্যেকটি বাক্সের গায়ে কিউআর কোড এবং লোগো থাকা আবশ্যক। জেলা শাসকরাই এই গ্রিন বাজি বিক্রি করা এবং মজুত করার জন্য লাইসেন্স দিতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরে গ্রিন বাজির জন্য প্রায় দশ হাজার লাইসেন্স পেতে চলেছেন বিক্রেতারা।
আরও পড়ুন: দুর্গা পুজো: ২০২৮ সালে একই বছরে ২ বার দুর্গা পুজো! প্রকৃত তথ্য জেনে নিন
অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। উৎসবের মরশুমে যাতে বাজারে শুধুমাত্র পেসোর ছাড়পত্র পাওয়া সবুজ বাজি বিক্রি হয় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের। এখানেই শেষ নয়, কালীপুজোর পর আদালতের কাছে সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করতে হবে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে। অর্থাৎ বাজি নিয়ে উৎসবের আবহে বেশ কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবেশ বান্ধব বাজি ছাড়া যাতে অন্যান্য দূষিত আতশবাজি বাজারে বিক্রি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। সেই নির্দেশ মতোই বারুইপুর থানার পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করে দশ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চম্পাহাটি হারাল বাজি ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানান যদি না এরকম রায় পাওয়া যেত না খেয়ে মরতে হতো তাদের। তাদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাজি ব্যবসায়ী রয়েছেন যাদের পেট চলে একমাত্র আতশবাজি বিক্রি করে। এখন বিক্রিবাটা কিরকম হয়, সেটাই দেখার বিষয়।
