শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: মমতার দুই প্রাক্তন মেয়র নিজেদের মধ্যে শুরু করেছেন বাক যুদ্ধ। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি মাটি ছাড়তে রাজি না। আর বঙ্গবাসী তা রসিয়ে রসিয়ে উপভোগ করছেন আর বলছেন - এই না হলে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই প্রাক্তন মেয়রের মধ্যে চলছে জোর তরজা। একজন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। আরেকজন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। কেন রাজ্যপাঠ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন ববি, তা নিয়ে যেমন একদিকে প্রশ্ন তুলেছেন Sovon, তারই পাল্টা জবাবে ফিরহাদ তাঁকে ভাঁড় বলে কটাক্ষ করেছেন। শুধু তাই নয়, ফিরহাদের মন্তব্য, ‘নিজের প্রেমের জন্য’ পুরসভা ছেড়ে তিনি পালিয়ে যাননি। শোভনকে এই ভাষায় আক্রমণ করতেই এবার ফিরহাদকে পাল্টা নিশানা করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বৈশাখী জানান, ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সঙ্গে পরিচয় হওয়া সবথেকে বিড়ম্বনার। শুধু তাই নয়, ফিরহাদকে ‘আপদ’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। বৈশাখী বলেন, “যে ভাষায় ববি দা কথা বলেছে, এটাই ওঁর কৃষ্টি। শোভনের কারণে ওঁর মতো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া আমার জীবনে সবথেকে বড় বিড়ম্বনার কারণ ছিল। শোভন আমাকে যে সমস্ত আপদকে গিফ্ট করেছে, যাঁদেরকে আমার সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হবে, এই অসভ্য, গা ঘিনঘিনে কথাবার্তা, তাঁদের মধ্যে উনি অন্যতম। সেটা আমি এই সম্পর্কে ধরে নিয়েই এগিয়েছি। তাই নতুন করে অবাক হই না, নতুন করে আঘাত লাগে না।” রাজ্যে পালাবদলের পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমের জায়গায় থাকলে কী করতেন শোভন? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “ফিরহাদ হাকিম রাজ্যপাঠ ছেড়ে চলে গেলেন কেন? কী কারণে? বলে দিলেন ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার?…ঢালও ছিল, তরোয়ালও ছিল। ডিটারমিনেশন ছিল না। সেই দৃঢ়তার অভাবেই উনি ছেড়ে পালিয়েছেন।” শোভনের প্রশ্নের জবাবে ফিরহাদ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম পালিয়ে যায়নি। আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। সম্মানহানি হচ্ছিল। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করে ইস্তফা দিয়েছি। আর কেন ছাড়ছি তা সাংবাদিক বৈঠক করেও জানিয়েছি। সুতরাং আমি যখন দরকার হয় বিজেপি করব, যখন দরকার হয় তৃণমূল করব তা আমি করি না। আমি তৃণমূলে আছি ও থাকব। আর শোভন চট্টোপাধ্য়ায়ের মতো মানুষের জবাব দেওয়া, যে নিজের পরিবারেরই হতে পারেনি, সে আবার মানুষের সঙ্গে কোথা থেকে থাকবে?”
