মূল বিষয়বস্তুতে যান
Sheffield Ttimes লোগো

সময়ের সম্মুখে

বিজ্ঞাপন
Pratima Banner 2
পুজো পার্বন

Kali Puja 2026: শ্মশানে বাস, শিহরণ জাগায় মায়ের এই উগ্ররূপ!

প্রকাশিত:

মূল বিষয়

গাঢ় মেঘের মতো গাত্রবর্ণ। গলায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা। আর দুই হাতে খড়্গ ও নাগপাশ। দেবীর Ma Kali এই উগ্র ও ভয়ংকর রূপ সাধারণত গৃহস্থের অন্দরমহলে ব্রাত্য। তান্ত্রিক সাধনা আর মহাশ্মশানের নীরবতাই তাঁর Ma Kaliচিরকালীন ঠিকানা। অথচ এই রহস্যময়ী শক্তির আরাধনাতেই একসময় মজেছিলেন বাংলার সাধকরা। কেন জানেন?

মা কালী
মা কালী
শেয়ার করুন:

শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: গাঢ় মেঘের মতো গাত্রবর্ণ। গলায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা। আর দুই হাতে খড়্গ ও নাগপাশ। দেবীর Ma Kali এই উগ্র ও ভয়ংকর রূপ সাধারণত গৃহস্থের অন্দরমহলে ব্রাত্য। তান্ত্রিক সাধনা আর মহাশ্মশানের নীরবতাই তাঁর চিরকালীন ঠিকানা। অথচ এই রহস্যময়ী শক্তির আরাধনাতেই একসময় মজেছিলেন বাংলার সাধকরা। কেন জানেন?তন্ত্র সাধনায় দেবীর নানা রূপের কথা বলা হয়েছে। তোড়ল তন্ত্র ও মহাকাল সংহিতা অনুসারে কালী মূলত নয় প্রকার। দক্ষিণা, ভদ্রকালী কিংবা শ্মশান কালীর পরিচিতি সমাজে থাকলেও, এদের মধ্যে অন্যতম রহস্যময় ও গুহ্য রূপটি হল গুহ্যকালী। দেবী ভাগবত পুরাণ মতে, শতাক্ষী দেবীর শরীর থেকেই তাঁর উৎপত্তি। সাধক সমাজে তিনি আকালী নামেও পরিচিত। গৃহস্থের অন্দরমহলে দেবীর এই রূপ অপ্রকাশ্য হলেও তন্ত্র সাধকদের কাছে এর মাহাত্ম্য অপরিসীম।

পুরাণকথা বলে, দারুকাসুর বধের পর এক দেবতা মহেশ্বরের শরীরে প্রবেশ করেছিলেন। মহাদেবের গলার হলাহলের নীল রঙেই তাঁর গাত্রবর্ণ কালিমালিপ্ত হয়। তাই তিনি বিষধরী ও উগ্রচণ্ডী। গুহ্যকালীর শারীরিক অবয়ব বড্ড শিহরণ জাগানো। তাঁর মাথায় জটাজুট ও অর্ধচন্দ্র। কানে শোভা পায় শবদেহরূপী অলঙ্কার। গলায় থাকে নাগবেষ্টিত উপবীত। আর চতুর্দিক ঘিরে থাকে অসংখ্য নাগফণা। তাঁর বাম পাশে অবস্থান করেন স্বয়ং মহেশ্বর। কথিত আছে, তিনি শবমাংস ভক্ষণ করেন। এই ভয়াল প্রকৃতির জন্যই সাধারণ গৃহস্থের পুজোয় দেবীর এই রূপের কোনও স্থান নেই। এই গুহ্যকালীর সাধনা অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। লোকশ্রুতি বলে, সাধক বামদেব এই মহাশক্তির সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই সাধনা প্রায় অসম্ভব। এই দেবীর লীলাক্ষেত্র হিসেবে বাংলার বীরভূম জেলার আকালীপুর গ্রাম আজও সুবিখ্যাত। ব্রাহ্মণী নদীর তীরে শ্মশানের পাশে মহারাজা নন্দকুমার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গুহ্যকালীর ঐতিহাসিক মন্দির। আজও অমাঘোর রাতে তন্ত্রসাধকদের পদচারণায় মুখরিত হয় সেই শ্মশানভূমি। লোকালয় থেকে দূরে, নিস্তব্ধ প্রকৃতির কোলে এই পুজো এক অনন্য রহস্যের জন্ম দেয়। সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই দেবী কালী আজও বাংলার তন্ত্রসাধনার এক বিস্ময়কর অধ্যায় হয়ে বেঁচে রয়েছেন।

প্রতিবেদক

Ankita Jana