শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: জীবনে কখনও একের পর এক বাধা, কখনও পারিবারিক অশান্তি, আবার কখনও কর্মক্ষেত্রে সমস্যা। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, অনেকেই ভরসা রাখেন বজরংবলীর উপর। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবান হনুমান শক্তি, সাহস, আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। মন থেকে তাঁর আরাধনা করলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হনুমান মন্দিরগুলিতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের সমস্যা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে যান ভক্তরা। ইতিহাস, লোককথা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই Hanuman Mandir পরিচিতি। দেখে নেওয়া যাক, দেশের এমনই কয়েকটি বিখ্যাত হনুমান মন্দিরের কথা।
* সংকটমোচন মন্দির, বারাণসী - নামেই রয়েছে এর মাহাত্ম্য। বারাণসীর সংকটমোচন হনুমান মন্দিরকে মনে করা হয় বিপদ ও বাধা কাটানোর অন্যতম পবিত্র স্থান। জীবনে বারবার সমস্যা, বাধা কিংবা দুর্ভাগ্যের মুখে পড়লে অনেকেই এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে হনুমানজিকে বেসনের লাড্ডু নিবেদন করার প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি হনুমান চালিশা পাঠ এবং সন্ধ্যারতি দর্শনও ভক্তদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
* জাখু মন্দির, সিমলা - সিমলার সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত জাখু মন্দির। এখানে রয়েছে ১০৮ ফুট উঁচু লাল রঙের হনুমান মূর্তি, যা পর্যটক ও ভক্তদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। বিশ্বাস, জীবনে নতুন কাজ শুরু করার আগে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে অনেকে এখানে আশীর্বাদ নিতে আসেন। মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রার্থনা করেন ভক্তরা। মন্দিরে ফুল নিবেদন, ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো এবং সুন্দরকাণ্ড পাঠের প্রচলন রয়েছে। তবে এখানে প্রচুর বাঁদর দেখা যায়। তাই খাবার দেওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
* মহাবীর মন্দির, পটনা - বিহারের পটনায় অবস্থিত মহাবীর মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি হনুমান মন্দির। পারিবারিক সুখ-শান্তি, সন্তানের মঙ্গল এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার কামনায় বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে মিষ্টি নিবেদন ও প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় বেশি হয়।
* মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দির, রাজস্থান -রাজস্থানের মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দির দেশের অন্যতম আলোচিত হনুমান মন্দির। এখানে হনুমানজিকে বালরূপে পুজো করা হয়। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা ধরনের বিশেষ ধর্মীয় আচার ও লোকবিশ্বাস। ভক্তদের বিশ্বাস, ভয়, অশান্তি এবং নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন বহু মানুষ। দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা, অজানা ভয় কিংবা দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তির আশাতেও অনেকে এই মন্দিরে পুজো দেন।
