শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: শুনলে অবাক হয়ে যাবেন আজ থেকে ৩৬৮ বছর আগে পুরুলিয়া জয়পুর রাজবাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল সোনার প্রতিমা দিয়া। সারাবছর এই মূর্তি থাকে ব্যাঙ্কের লকারে। ষষ্ঠীর দিন কড়া পুলিশি পাহারায় রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। চারদিন রাজবাড়িতে পুজোর পর ফের পুলিশি নিরাপত্তায় ফিরে যান ব্যাঙ্কের লকারে। প্রায় দেড় কেজি সোনা দিয়ে তৈরি সেই দুর্গাপ্রতিমাকে ঘিরেই এই রাজবাড়ির পুজোর আয়োজন। এবার ৩৬৮ বছরে পা দিল এখানকার পুজো। তবে, এবার আর পুজোর জৌলুস নেই। চেনা রীতিতে ছেদ পড়তে চলেছে। পরিবারে কালাশৌচ থাকায় এ বছর রাজবাড়িতে আসবেন না সোনার দুর্গা। কথিত আছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে রাজা জয়সিং পুরুলিয়ায় এসেছিলেন। তাঁর নাম থেকেই এলাকার নাম হয় জয়পুর। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, এলাকার মুন্ডা সর্দারকে পরাজিত করে জঙ্গলমহলের এই অংশ নিজের দখলে এনেছিলেন তিনি। রাজপরিবারের ইতিহাস বলছে, ১৬৭০ সাল নাগাদ একটি তরবারিকে শক্তির প্রতীক হিসেবে সামনে রেখে দুর্গাপুজো শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাজপরিবারের সপ্তম রাজা মদনমোহন সিংহ তরবারির পাশাপাশি মাটির দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজোর প্রচলন করেন। সেইসময় খড়ের চালা তৈরি করে পুজো হত।
তবে সেই সময়ই ঘটে যায় অঘটন। জ্বলন্ত প্রদীপ থেকে আগুন লেগে দুর্গাপ্রতিমা পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মন্দিরও। রাজপরিবারের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এক রাতে স্বপ্নাদেশ পান রাজা কাশীনাথ সিংহ। এরপর বেনারস থেকে স্বর্ণকারদের রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের হাতেই তৈরি হয় সোনার দুর্গাপ্রতিমা। রাজপরিবারের দাবি, প্রায় দেড় কেজি সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল প্রতিমাটি। পাশাপাশি প্রায় দেড় মন রুপো দিয়ে তৈরি হয়েছিল চালচিত্র। সেই সময় থেকেই সোনার দুর্গাপ্রতিমার পুজো হয়ে আসছে জয়পুর রাজবাড়িতে। ১৯৭১ সালে রাজবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সোনার দুর্গাপ্রতিমা ডাকাতদের হাতে না পড়লেও অন্যান্য অলঙ্কার লুঠ হয়েছিল বলে দাবি রাজপরিবারের। এরপরই সোনার প্রতিমার নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হয় জেলা পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে রাজবাড়িতে সারা বছর সোনার দুর্গাপ্রতিমা রাখা যাবে না বলে জানানো হয়। তারপর থেকেই ব্যাঙ্কের লকারে রাখা হয় প্রতিমা।
.jpeg)
