মূল বিষয়বস্তুতে যান
Sheffield Ttimes লোগো

সময়ের সম্মুখে

বিজ্ঞাপন
Care and Cure 1
পুজো পার্বন

Hangseswari Temple: মা কালী এখানে কুলকুণ্ডলিনীর রূপে বিরাজমান!

প্রকাশিত:

মূল বিষয়

এটি সাধারণ কোনও মন্দির নয়, এই মন্দিরের প্রতিটি খাঁজে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন তন্ত্র ও ষটচক্র জাগরণের রহস্য(Hangseswari )। এখানে মা চতুর্ভুজা, নীলবর্ণা। এক হাতে বরাভয়, অন্য হাতে তরবারি। মহাকালের হৃদয় থেকে জন্ম নেওয়া পদ্মে তাঁর অধিষ্ঠান। তিনি কালী, তবে এখানে তিনি কুলকুণ্ডলিনীর রূপে বিরাজমান।

  হংসেশ্বরী
  হংসেশ্বরী
শেয়ার করুন:

শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এটি সাধারণ কোনও মন্দির নয়, এই মন্দিরের প্রতিটি খাঁজে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন তন্ত্র ও ষটচক্র জাগরণের রহস্য। এখানে মা চতুর্ভুজা, নীলবর্ণা। এক হাতে বরাভয়, অন্য হাতে তরবারি। মহাকালের হৃদয় থেকে জন্ম নেওয়া পদ্মে তাঁর অধিষ্ঠান। তিনি কালী, তবে এখানে তিনি কুলকুণ্ডলিনীর রূপে বিরাজমান। হুগলির বাঁশবেড়িয়ার মা হংসেশ্বরীর মন্দির(Hangseswari ) শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি এক জীবন্ত যোগমার্গ। শ্রীরামকৃষ্ণদেবও এই আধ্যাত্মিক টানে একাধিকবার ছুটে এসেছেন এখানে। 

  মন্দির তৈরির গল্প: - আজ থেকে প্রায় ২১০ বছর আগে বাঁশবেড়িয়ার রাজা নৃসিংহদেব রায় এই মন্দির তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি কাশীতে গিয়ে তন্ত্র সাধনা শিখেছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁর আর বিষয়-সম্পত্তিতে মন টেকেনি। শেষমেশ বিলেত যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে তিনি এই মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

  কি রহস্য আছে এই মন্দিরে? বাংলার আর পাঁচটা গতানুগতিক মন্দিরের থেকে হংসেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্য সম্পূর্ণ আলাদা। ৭০ ফুট উঁচু, ৬ তলা এই মন্দিরের চূড়া রয়েছে ১৩টি। তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের শরীরে সুষুম্নাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে সাতটি চক্র রয়েছে, মন্দিরটি ঠিক সেই আদলেই গড়া। মন্দিরের গর্ভগৃহ হল মূলাধার চক্র। সেখানে পাথরের বেদিতে খোদাই করা অষ্টদল পদ্মের উপর শায়িত শিব। তাঁর নাভি থেকে ওঠা ১২টি পাপড়ির রক্তলাল পদ্মে অধিষ্ঠান করছেন স্বয়ং মা হংসেশ্বরী।

  মানবদেহের পাঁচটি নাড়ির প্রতীক হিসেবে মন্দিরে রয়েছে পাঁচটি সিঁড়ি। কালীমূর্তির সঙ্গে মন্দিরের তিন তলায় রয়েছে কষ্টিপাথরের ১২টি শিবলিঙ্গ। গর্ভগৃহ থেকে চূড়া পর্যন্ত গোটা মন্দির জুড়েই ভিতর ভিতর অসংখ্য গোপন সিঁড়ি ও সংযোগপথ উঠে গিয়েছে। গুরুর নির্দেশ ছাড়া এই যৌগিক গোলকধাঁধা থেকে কখনও সহজে মোক্ষের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তন্ত্রমতে, মানুষের নিঃশ্বাসের সময় ‘হং’ এবং প্রশ্বাসের সময় ‘সঃ’ শব্দ নির্গত হয়। এই ‘হংস’ বা অজপা মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবীই হলেন মা হংসেশ্বরী। তবে রাজা নৃসিংহদেব এই কাজ সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। ১৮০২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর রানি শঙ্করী প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দিরের কাজ শেষ করেন। ১৮১৪ সালে সাধারণের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হল।

প্রতিবেদক

Ankita Jana