শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: আজ, শনিবার Deewali-র আগের দিন ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খেয়ে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোই রীতি। কিন্তু কেন এই রীতি। অনেক কাল ধরে চলা এই রীতির পিছনে আছে কোন কারন - তা নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই প্রতিবেদন। চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা, অষ্টাঙ্গ হৃদয়, ভাবপ্রকাশ-সহ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থে চোদ্দ শাকের বিশেষ বর্ণনা আছে। রঘুনন্দন, ষোড়শ শতাব্দীতে তাঁর অষ্টবিংশতি তত্ত্বের অন্যতম গ্রন্থ ‘কৃত্যতত্ব্যে’, যেখানে তিনি প্রাচীন স্মৃতির গ্রন্থ ‘নির্ণয়ামৃত’-র অভিমত অণুসরণ করে এই ১৪ প্রকার শাকের উল্লেখ করেছেন। এই রীতি স্বাস্থ্যসম্মতও। চলুন জেনে নেওয়া ১৪ শাকের কী গুণাগুণ।
* ওল: ওলের কন্দ অর্শ, জন্ডিস ও রক্ত আমাশার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
* কেঁউ: কেঁউ পাতার রস হজমকারক ও ক্ষুধাবর্ধক। জ্বর, আমাশা, ডায়েরিয়া, কফ, কাটা-ছেঁড়া, ক্ষত, চর্মরোগ, আরথ্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, কুষ্ঠ, কৃমি, চুলকানি, ইত্যাদি রোগে ব্যবহৃত হয়।
* বেতো বা বেথুয়া: এই শাকে প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, লোহা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ আটটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে।
* কালকাসুন্দে: অ্যালার্জি, কোষ্ঠবদ্ধতা, জ্বর, ও ক্ষত নিরাময়ে কালকাসুন্দার পাতার রস ব্যবহৃত হয়।
* সরিষা: ভিটামিন কে, সি ও ই এবং ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও লোহার সমৃদ্ধ উৎস হল এই শাক।
* নিম: নিমপাতা বা পাতার রস কুষ্ঠ, চর্মরোগ, বহুমূত্রর অন্যতম ঔষধ।
* জয়ন্তী: বহুমূত্র, শ্বেতী, কৃমিনাশ, ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় কাজ করে।
* শালিঞ্চ বা শিঞ্চে: এই শাককে সাঁচিশাকও বলে। চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য শালিঞ্চা শাক খুব উপকারী। ডায়েরিয়া, অজীর্ণ চিকিৎসায় এই শাক খেলে উপকার হয়। এই শাক খেলে মায়ের স্তনদুগ্ধের পরিমাণ বাড়ে।
* গুড়ুচি: ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বাত, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হেপাটাইটিস, পেপটিক আলসার, গনোরিয়া, সিফিলিস, জ্বর ইত্যদি নানা রোগের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় গুলঞ্চ ব্যবহৃত হয়। গুলঞ্চ শাক খেলে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পায় ।
* পটলপত্র: রক্তবর্ধক ও রক্তশোধক হিসাবে এবং লিভার ও চর্মরোগ সারাতে পটলপাতা খুব কার্যকর। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে ব্যবহার হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়, খিদে ও হজমশক্তি বাড়ায়। ক্ষতস্থানে পটলপাতার রস লাগালে তাড়াতাড়ি সারে।
* শেলুকা: কাঁচা গাছ ও বীজ মশলা হিসাবে রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আর শাক হিসাবে ব্যবহৃত হয় পাতাসহ ডগা। মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ বাড়াতে ও বাচ্চাদের পেটের রোগ সারাতে শুলফা শাক খুব উপকারী।
* হেলেঞ্চা বা হিঞ্চে: হেলেঞ্চাকে রক্তশোধক, পিত্তনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, হিসাবে ব্যবহৃত করা হয়। নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে। হেলেঞ্চা শাকে যথেষ্ট অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে তাই রোগ প্রতিরোধী ভূমিকা রয়েছে।
* ঘেঁটু/ঘণ্টাকর্ণ: এর পাতাতে প্রচুর ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। চুল পড়া, হাঁপানি, কফ, বাত, জ্বর, চর্মরোগ, লিভারের রোগ, ইত্যদি রোগ প্রতিরোধে ঘেঁটু পাতা খুব কার্যকর।
* শুষনি: বিজ্ঞানসম্মত নাম মার্সিলি কোয়াড্রিফোলিয়া বা মার্সিলি মিনুটা। ভারত-সহ দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া, চিন, মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপে শাক ও ভেষজ উদ্ভিদ হিসাবে শুষনি খুব পরিচিত।

