শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন সরকার পাত্তনের পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন, তারা কোনো দুর্গা পুজোর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করবেন না। কিন্তু তা হয় নি। কলকাতা ও রাজ্যের বহু পুজোর প্রধান এখন বিজেপি নেতারা। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সঙ্গের পুজো এখন বিজেপির পুজো। সেই সুরুচি সংঘের এবার থিমভাবনায় এবার ফুটে উঠবে ‘ভারত কেশরীর’ ইতিকথা। থিমের নাম ‘উৎস’। এবার রাজ্যজুড়ে আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়েছে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। সে কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাবে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ। শ্যামাপ্রসাদ ও ‘হিন্দু মহাসভা’ একটি আপসহীন গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনমতকে বাংলা ভাগের পক্ষে নিয়ে আসতে তৎপর হয়েছিলেন। ভাইসরয় ওয়াভেলকে লেখা ১৯ মার্চ, ১৯৪৭ সালের চিঠিতে গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, বাংলা ভাগের আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন মুখ্য প্রবর্তক।
তিনি হিন্দু বাঙালিদের ভারতভুক্ত করার পক্ষে কেবল জোরালো মত রেখে থেমে যাননি, বাংলা ভাগ আটকাতে যে সব শক্তি পরস্পর হাত মিলিয়েছিল, তাদের মধ্যে লিগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশকে একই বন্ধনীতে রেখে সমালোচনাও করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি বাংলায় সংখ্যাগুরু মুসলিম লীগের আধিপত্য ও হিন্দুদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব মেনে নিতে পারেননি। জিন্নার উগ্রতার রাজনীতিকেও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অমলেশ ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন যে, একজন ‘উদারপন্থী’ হিন্দু রূপে শ্যামাপ্রসাদ হিন্দুদের ‘ভালো’র জন্য ফজলুল হকের সঙ্গে হাত মেলাতে বা কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকী বাংলা ভাগের প্রশ্নে বঙ্গীয় আইনসভার হিন্দু সদস্যদের তিনি যথেষ্ট প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
