নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের শহর কলকাতার বুকে শ্লীলতাহানির শিকার এক তরুণী। ঘটনাটি মঙ্গলবারের। উত্তর কলকাতার আরজি কর ব্রিজের কাছে (ওয়েস্ট ক্যানাল রোড সিগন্যাল) -এ এক তরুণী স্কুলশিক্ষিকাকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানি ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। হেনস্থার শিকার হওয়া তরুণী প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অভিযুক্তের ভিডিও করতে শুরু করেন। সেই ভিডিওটিই নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইস্তায়াকুর রহমান কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ৩ টে নাগাদ তরুণী কাজ শেষে এক বন্ধুর স্কুটিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষিকার দিকে হেলে পড়েন এবং ক্ষমা চাওয়ার আছিলায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ও গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। তরুণী এই নোংরা আচরণের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পাল্টা তাঁকে ও তাঁর বন্ধু কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। দুই পক্ষের ঝামেলায় যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি তখন স্থানীয় এবং পথচলতি মানুষজন এসে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি কে ধরে ফেলেন।
তরুণীর বন্ধুর অভিযোগ, তিনি অভিযুক্তের কলার ধরলে ইস্তিয়াকুর সেখান থেকে পালিয়ে একটি বাসে উঠে পড়েন। বাসে উঠেও চলতে থাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। পরে স্থানীয় লোকজন ও তরুণীর বন্ধু তাঁকে বাস থেকে টেনে নামিয়ে দেন।
এরপর দুই পক্ষের বচসা আরও তীব্র আকার ধারন করে। অভিযোগ, সেই সময়ে ইস্তিয়াকুর নিজের দলবল কে ডেকে আনেন। তাঁকে বাঁচাতে কয়েকজন একটি বাসে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সম্পূর্ণ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি অব্যাহত ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ইস্তায়াকুর রহমান বেলগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা। তরুণীর আরও অভিযোগ, শ্লীলতাহানির পাশাপাশি তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। কোনওরকমে তিনি এবং তাঁর বন্ধু অভিযুক্তকে টালা ট্রাফিক গার্ডের বুথে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানেও ওই ব্যক্তি তরুণীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন।
পরবর্তীতে তরুণী তাঁর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে টালা থানায় যান। এই ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে সেটি উল্টোডাঙা থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। তাই তাঁকে সেখানে পাঠানো হয়। উল্টোডাঙা থানায় গিয়ে গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিক্ষিকা। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে পুলিশের তরফে। মঙ্গলবারই ইস্তায়াকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আরও একবার কলকাতা শহরের বুকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নারী নিরাপত্তা।
