শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: আগেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের 'এনকাউন্টার' থিওরিকে সমর্থন করেছে। বিরোধীরা বলছে, এই থিওরি যোগী রাজ্য থেকে বাংলায় আমদানি করা হয়েছে। কোনো সমালোচনাকেই পাত্তা দিতে রাজি না শুভেন্দু। পালাবদলের পর কার্যত ‘যোগীরাজ্যের মডেলে’ পশ্চিমবঙ্গেও অপরাধীদের খত করতে শুরু হয়েছে এনকাউন্টার। বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের এনকাউন্টার দিয়ে সূত্রপাত, এবার একই দিনে গাইঘাটা-সামশেরগঞ্জেও চলল বন্দুকের শাসন। এ প্রসঙ্গে বিরোধীশিবিরে একাধিক বিতর্ক থাকলেও, অপরাধীদের উৎখাত করতে এনকাউন্টার-কায়দায় আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী Suvendu। রায়গঞ্জের সভা থেকে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। রাজ্যে নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ যে বরদাস্ত হবে না, রায়গঞ্জের সভা থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে পুলিশের এনকাউন্টারের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনদের সুরক্ষা পুলিশকে ‘খোলা হাত’ দেওয়া হয়েছে। এ দিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “যা করার করব। নিশ্চিন্তে থাকুন। পুলিশকে খোলা হাত দিয়ে এসেছি। কেউ যদি ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো কাজ করে, তাহলে যা দরকার পুলিশ তাই করবে।"
তিনি আরও বলেন, "যারা মা-বোন ও মেয়েদের অসম্মান করবে, তাদের কী পরিণতি হচ্ছে তা সবাই দেখতে পাচ্ছে। সামাজদার কা তো ইশারাই কাফি হ্যায়। পুলিশমন্ত্রী তো এর থেকে বেশি কিছু বলব না। আপনারা সজাগ থাকবেন।” প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোররারে ও দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা ও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পরপর দুটি পুলিশের এনতকাউন্টার দেখেছে রাজ্য। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ হেফাজত থেকে ধৃতদের ঘটনার পুনর্নির্মানের জন্য অকুস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ, অভিযুক্তদের গুলির পাল্টা পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়। প্রথম ক্ষেত্রে পুলিশের গুলিতে নিহত গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সামশেরগঞ্জে ব্যবসায়ী সুজিত মণ্ডলের খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সামাউল শেখের এনকাউন্টার হয়। তিন মাস আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার করে পুলিশ।
